My Blog

Description of my blog

গহণ বোধে

Posted by: Eros

Tagged in: Untagged 

--সুয়োরের বাচ্চা, তোর মায়রে *****। আমি আজকে রাতের মধ্যে শেষ করতে বলছি, আজকে রাতের মধ্যে! কথা তোর কানের **** মধ্যে যায় না? আর কিছু হইলেই ফোন দেও কেন টাকা দেয় কে তোর বাপ? বলছি না বাসায় আসলে ফোন দিবি না, *****। রাতের মধ্যে কাজ শেষ করবি সকালে আমি আসব।রাখি।

 

         রাতের থালা বাসন পরিষ্কার করতে করতে ভাবছিলাম আজকের দিনটা বোধ হয় ভালোই কাটবে। ভাবতে না ভাবতেই আবার শুরু হয়েছে। লোকটা এসব ছাড়া কথাই বলতে পারে না। প্রথম প্রথম ভাবতাম বাবা-মা ছাড়া ছন্নছাড়া জীবনযাপনে এমন হয়েছে। পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। আজ তিন বছর হল আমাদের বিয়ে হয়েছে কিন্তু কিছুই বদলায়নি। জীবন তার খুবই গোছানো এবং বেশ পরিকল্পিত। কিন্তু মুখের ভাষা!! কোন আসবাবের নাম মুখে নিলেও এভাবেই বলবে শালার টেবিল, *** টিভি ইত্যাদি। আর ইনিই আমার বাবার ভালো মানুষ, যার সাথে আমার কোন মতামত ছাড়াই আমার বাবা আমাকে বিয়ে দিয়ে গেছেন।  

          আমার বাবা সাংবাদিক ছিলেন।কিন্তু অল্প দিনেই তিনি সাংবাদিকতা ছেড়ে লেখালেখিতে হাত দিলেন। তার অবশ্য একটা কারণ আছে। যদিও তা আমাদের ধারণা। কারণ বাবাকে বুঝবার মত ক্ষমতা আমাদের কোন দিনই ছিল না। আমরা চার ভাই বোন ছিলাম। ছিলাম বলছি কারন আমাদের বড় বোন সুলেখা খুব ছোট বেলায় মারা যায়। এর পর থেকেই বাবা সাংবাদিকতা ছেড়ে দেন। সুলেখা আপুর মৃত্যুর সাথে এর কোন যোগ আছে কিনা আমরা জানি না। সুলেখা আপুর পরে মিলি আপু, আমি এবং সবার শেষে নিপুন।  

          আমার জন্মের পর থেকেই আমি বাবাকে দেখেছি সারা দিন ঘরে দরজা বন্ধ করে লিখতে। মাঝে মাঝে মাঝ রাতে চিৎকার করে উঠতেন “লেখারে!!” বাবার ঘরে আমাদের প্রবেশ অধিকার সংরক্ষিত ছিল। মার কাছে শুনেছি তিনি ঝিম ধরে বসে থাকতেন আর হঠাৎ করে এমন করে চিৎকার করতেন। হয়ত তাঁর দুঃখ প্রকাশের ধরণই এমন ছিল। লেখক হিসেবে তিনি তেমন ক্ষ্যাত ছিলেন না। কিন্তু আমাদের বাড়িতে বিভিন্ন দেশের অধ্যাপকরা আসতেন বাবার সাথে গল্প করতে। বাবার লেখা যে প্রকাশণা থেকে বের হত তার নাম “আখতার পাবলিকেশনস” আর এর মালিক আখতারুজ্জামানই বাবার ভালো মানুষ।

          বাবা  একদিন আমায় ডেকে বললেন, লিনা আমি চলে যাব, আমার সৌভাগ্য  তোমার জন্য আমি একজন ভালো মানুষ খুঁজে পেয়েছি। বুঝে ওঠার আগেই আমার বিয়ে হয়ে গেল এবং আমার বিয়ের তিন মাসের মধ্যে বাবা সত্যি সত্যিই চলে গেলেন। নিপুণ উচ্ছন্নে যাওয়ার শেষ পর্যায়ে চলে গেছে তখন। বাবার মৃত্যুর খবর তাকে দেয়ার জন্য খুঁজেই পাওয়া গেল না। মিলি আপুর বিয়ে হয়েছে রাজশাহী রেলওয়ের স্টেশন মাস্টারের সাথে। ওর বাচ্চা হবে, তাই আসতে পারেনি। ওর বরও আসেনি। বাবার অন্তিম সংস্কার, দেনা-পাওনা, মিলাদ পড়ানো, গরীব লোকজন খাওয়ানো, মাকে আমাদের সাথে নিয়ে আসার কথা প্রস্তাব করা, মা রাজী না হওয়ায় গ্রাম থেকে কাজের মেয়ে আনিয়ে মায়ের সাথে রাখা, প্রতি সপ্তাহে বাজার পাঠানো সব এই লোকটাই করে আসছে।

          কিন্তু  প্রকাশণা এবং প্রেসের স্টাফদের সাথে তার ব্যাবহার, মুখের ভাষা আর রোবটিক জীবনযাপন আমার ভালো লাগছে না। তিন বছরে আমি কোন পরিবর্তণই দেখলাম না। নিজের শরীর যেমন ঢিলেঢালা পোষাকও পড়বে তেমন; ঢোলা-লম্বা শার্ট,সস্তা রঙ চটা প্যান্ট, বাটার সস্তা জুতা ছাড়া তার পোষাকে কোন পরিবর্তণ দেখলাম না। আজ পর্যন্ত আমার সাথে স্বামী-সূলভ কোন ব্যাবহার বা কথাবার্তা কখনও হয়নি। তার আর আমার সম্পর্ক অনেকটা রুমমেটের মত। শুধু বাড়তি আমি তার রান্না করে দেই।

 

-- আমার কিছু কথা আছে। 

 -- হুম। 

 -- আমি এখানে আর থাকতে চাই না। 

 -- বুঝলাম না। 

 -- আমি ডিভোর্স লেটার পাঠাবো। কাল সকালেই আমি চলে যাব।

 

 

লোকটা ফ্যালফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। আমার এই দৃশ্য দেখে আরো  মেজাজ খারাপ হল। পুরুষ  মানুষ কিন্তু আচরণ করবে মেয়েদের  মত। বিশ্রী!! 

 আমি পাশের ঘরে চলে গেলাম। মাঝ রাতে শুরু হল গোঙানি। এটাও একটা সমস্যা। মাঝে মাঝে রাতের বেলা সে ভয়ংকর ভাবে গোঙায়। একলা ঘরে আমার কেমন যে লাগে আমি ভাষায় বলতে পারব না। আমার ধারণা একটা লাশের সাথে থাকতে হলেও আমি এতো ভয় পেতাম না। সারা রাত আমি জেগেই কাটালাম। সকাল হওয়া মাত্র আমি এক পোষাকে রওনা করে বাসায় চলে এলাম।  

 

 

      বাসায় এসে দেখি মিলি আপু ওর বর ও ছেলে সহ আমাদের বাসায়। দুলাভাই দুপুরে খেয়েই চলে যাবেন। ঢাকায় কিছু কাজ আছে ওগুলো সেরে রাতের ট্রেণে রাজশাহী চলে যাবে্ন। এক সপ্তাহ পর আবার ওদের এসে নিয়ে যাবেন। আমি ওদের আর কিছুই বললাম না। বললাম এমনি বেড়াতে এসেছি। আমাদের কথা শুনে নিপুও চলে এলো। রাতে সবাই খুব

মজা করলাম। কাউকে কিছু বুঝতে দিলাম না। কিন্তু নিপু রাতের বেলা ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলল , ঘটণা কি বল?  

আমি অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম বটে কিন্তু লুকানোর চেষ্টা করলাম না। শান্ত স্বরে বললাম আমাকে ডিভোর্সের ব্যাবস্থা করে দিতে পারবি?

      -- তুই আর মা খাবি কি?

      -- চাকরি জোগাড় হয়ে গেছে  প্রায়। সজীবকে বলেছি।  সজীবকে চিনেছিস তো?

নিপু বড়দের  মত সিগারেট ধরাতে ধরেতে  বলল, ভালো মানুষ মারধর করে  নাকি? আমি বললাম, এসব নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছে হচ্ছে  না। খোঁজ নিয়ে আমাকে জানাস, আর আপাতত কাউকে কিছু বলিস না।

      উত্তরে  নিপু অদ্ভুত একটা শব্দ করল। যার অর্থ আমি বুঝলাম না।  আমি অবাক হলাম। সেই নিপু, লিনা বলতে পারত না বলত নিনা। সেই নিপুন আজ কত বড় হয়ে গেছে। আর কত দূরে চলে গেছে। নিপুনের জগৎ আজ আমার কাছে বড় অচেণা।

 

পরদিন লোকটা বাজার পাঠালো আর তার সাথে একটা চিঠি। খুব সংক্ষেপে যাতে লেখা –“এর সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কের যোগ খোঁজার কোন প্রয়োজন নেই।” 

 চিঠি মায়ের হাতে পরল। ঘটণা বুঝতে কারো বাকি থাকল না। মা আমাকে ডাকলেন এবং সব কিছু জানতে চাইলেন। আমি ভাবলেশহীন ভাবে বললাম, আমি চলে এসেছি। ওদিকে নিপু বাজার ফেরত দিয়ে দিল এবং তার সাথে হুমকিও দিয়ে দিল। ওর মত একটা ভালো ছেলের সাথে তোর কি এমন সমস্যা থাকতে পারে লিনা, যে তুই চলে এলি, মা রেগে রেগে বলছেন।

 

 

-- বাজার দিলেই ভালো মানুষ  হওয়া যায় না। তোমার  বাজারের ব্যাবস্থা আমি  করব। আমি চাকরি নিচ্ছি। 

 মা হতভম্ব হয়ে ছলছল চোখে চলে গেলেন। 

 

 

 

          দু’সপ্তাহ চলে গেল। মিলিরা এখনও আছে। জরুরী কাজের কারনে ওর বর আসতে পারছে না। আজ সারাদিন অনেক কাজ করতে হল। সজীবের সাথে দেখা করা,সজীবের সাথে আমার সম্ভাব্য অফিসে যাওয়া, ইন্টারভিউ টাইপের কিছু কথাবার্তা এসব সেড়ে বাসায় এসে ক্লান্ত লাগছে। টেনশনও লাগছে। মিলিরা আছে ওরা বাজার করছে, নিপুও ঘরে আসলে এটা সেটা নিয়ে আসছে। কিন্তু সবাই চলে যাওয়ার আগে একটা চাকরী জোগার করতে না পাড়লে কি হবে বুঝতে পারছি না। সবাই ঘুমে বিভোর। মিলিরা আম্মার সাথে ঘুমাচ্ছে। নিপুটা আজ আসে নি। নিপুটা আসলে আমার সাথেই থাকত। আমি জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে গেলাম। লোকটা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। ঘরের ভেতর শীত না লাগলেও বাইরে বেশ শীত। লোকটা একটা হাফ শার্ট পরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি আমার চোখের ভ্রম ভেবে এবং এমন ভ্রম দেখার পেছেনে সম্ভাব্য মানষিক অবস্থার কথা ভেবে সত্যিই হতবাক হয়ে গেলাম। দেখলাম ভ্রম নয় সত্যিই লোকটা দাঁড়িয়ে আছে। এবং আমার চোখে চোখ পড়তেই মাথা নীচু করে চলে গেল। তার মানে কি? লোকটা কি প্রতিদিনই আসে? কেন আসে? ভালবাসার কোন আবেগ কি তার মধ্যে আছে? কি চায় সে এখানে? 

           পরবর্তী চার দিন আমি লুকিয়ে লক্ষ্য করলাম লোকটা প্রতিদিনই আসে এবং ঘরের বাতি না নেভা পর্যন্ত দাঁড়িয়েই থাকে। মিলির ফোন থেকে নিপুকে ফোন করে বললাম লোকটা কেন আসে তা যেন জিজ্ঞেস করে আসে। 

 এরপর দিন থেকে লোকটাকে আর দেখা গেল না। তিন দিন থেকে আমি লক্ষ্য করলাম লোকটা আসে না। আমার মধ্যে কেমন একটা অস্বস্তি কাজ করছে। লোকটা আসতোই বা কেন আর এখন কেনই বা আসে না? নিপুও কিছু জানালো না। আমার অস্থির লাগছেই বা কেন? আমি নিজেকে ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। 

 

            দুপুরবেলা খাবার  খেয়ে খাবার টেবিলে বসে আছি। পাশের ঘরে মিলি আপুর ছেলে চেচিয়ে উঠল। গিয়ে দেখি বিড়াল দেখে ভয় পেয়েছে। আমাদের রান্না ঘরে বিড়াল মারার একটা লাঠি থাকে। মা লাঠি নিয়ে বেড়ালটাকে খুব মারল। বিড়ালটা প্রতিদিন খুব চেঁচামেচি করে আজ ঘ্যোঁত জাতীয় একটা শব্দ করে পালিয়ে গেল।

            সন্ধ্যাবেলা মিলি আপু আর মা নিউমার্কেট গেল। সেখান থেকে মিলি আপুর ননদের বাসায় যাবে। সারা ঘরে আমি একা। লাইট নিভিয়ে আমি বসে আছি এর মধ্যে বিড়ালটা বারান্দা থেকে ডাকতে শুরু করল। খুব মিহি আর নীচু স্বরে বিড়ালটা মিউ মিউ করছে। প্রতিদিন সে গ্রিল পেড়িয়ে এক লাফে চলে আসে। আজ সে ডাকছে।

আমি স্পষ্ট শুনতে  পাচ্ছি সে বলছে, আমার ক্ষুধার দিনে খাবার তো তোমরাই দাও। তোমরা মারলেই কি আমার সকল কৃতজ্ঞতা শেষ হয়ে যাবে।আমি এসেছি দরজা খোল।

 

 

আমি ভাবলাম, আমরা মানুষকে পশু বলে গালি দেই কেন? আমাদের থেকে ওদের নৈতিকতা কম কিসে?  

আমার মাথা ঘুরছে, কি হচ্ছে এসব? বিড়াল কি কথা বলে? আমি বিড়ালের কথা শুনছি কেন? আবার বিড়ালের কথায় যুক্তিও খুঁজছি!! 

 

 

      বিড়াল ডাকছে, মিউ...মিউ...মিউ...। আমার অস্থিরতা বাড়ছে। আমি স্থীর  থাকতে পারছি না। আমি ছুটে গেলাম বারান্দার দরজা খুলে বিড়ালটিকে ভেতরে আসতে দেবার জন্য। কিন্তু বারান্দায় আমার জন্য অন্য কিছু অপেক্ষা করছিলো আমি বুঝতে পারিনি।  

আমার পাগল বাবার ভালো মানুষ আখতারুজ্জামান বাড়ির পেছনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। তার মাথায় ব্যান্ডেজ, হাতে প্লাষ্টার। 

 

      আমি কাঁদছি না, কাঁদবার কোন অনুভূতিও আমার হচ্ছে না। কিন্তু আমার চোখ দিয়ে উষ্ণ দু’টি ধারা গড়িয়ে পরছে। পৃথিবীর অদ্ভূত নিয়মের প্রায় কিছুই আমি জানি না। জানার ইচ্ছেও কখনো হয়নি। কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্ব পিতার কাছে আমার সমস্ত জীবনের সমগ্র অস্তিত্ব অনুভবের দোহাই দিয়ে একটাই প্রশ্ন- আমার এই চোখের জলের উৎস কি? আমি জানতে চাই, আমাকে জানতে দাও।(collected)


সখি ভালোবাসা কারে কয় !!(1)

Posted by: Eros

Tagged in: Untagged 

রামিম সন্ধ্যা থেকে থেমে থেমে ডাকছে , আম্মা ! ও মা !

উথাল পাথাল গায়ে জ্বর নিয়ে গত দুই দিন ধরে বেশ কষ্ট পাচ্ছে  রামিম । রামিমের মা সুলতানা ছেলের জন্য সুপ বানাচ্ছেন । ওখান থেকে তিনিও মাঝে মাঝে ডাক দিচ্ছেন , '' আসছিরে বাপ , একটু সবুর কর । স্যুপটা খেলে গায়ে একটু বল পাবি । "

রামিম , মনে মনে বলল " স্যুপ খাব না । এরচেয়ে বরং এক বাটি ছাগলের মু... দাও ! ''

সুলতানা কিচেনে নিজে নিজেই গজ গজ করতে থাকেন , '' কোন কিছুর ঠিক ঠিকানা নেই তোর । কই থাকিস ! কি সব যে খাস কে জানে ! প্রতিদিন দুপুরে খাবার নিয়ে অপেক্ষা করতে করতে আমি আর পারছি না । প্রতিদিন নতুন নতুন বাহানা , আজ এক্সট্রা ক্লাস ছিল , না হয় প্রেক্টিকেল ক্লাস ছিল , আজ এখানে দেরী - সেখানে দেরী । কে জানে এসবের কতটুকু সত্যি । ''

'' বাপ , মিথ্যে বলিস না । মা-বাবার সাথে মিথ্যে বলা ঠিক না । ''

'' এসব কথা আসছে কেনো এখন ? মা , আমি এখন স্যুপ খাবো না । ''

'' আচ্ছা বাবা, এখন খেতে  হবে না । তোর পাশেই থাক । যখন ইচ্ছে হবে খেয়ে নিস । আমি গিয়ে দেখি তোর দাদি কই । মুরব্বি মানুষ ; দোয়া পড়ে ফুঁ দিলে সেরে উঠবি । '' 

             বলেই সুলতানা বড় ঘরের দিকে পা বাড়ান ।

 

 

রামিম শুয়ে শুয়ে ঘরের দক্ষিনের জানালা দিয়ে আকাশ দেখছে । সন্ধ্যার আকাশে একধরনের রহস্য খেলা করে । রামিম সেটা ধরার চেষ্টা করছে । কিন্তু ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না । তবে হঠাত্‌ তার বুকের ভেতর কিঞ্চিত ভাললাগা ঘুরে উঠে । চোখের মাঝে উচ্চারিত হয় জয়ন্তীর হাসি হাসি মুখ । জ্বরের কারনে তার সাথে রামিমের দেখা হয়নি গত দুই দিন । জয়ন্তী নিশ্চই চিন্তিত । ইচ্ছে করলেই সে কিন্তু সামান্তাকে নিয়ে দেখে যেতে পারে তাকে । কিংবা একটা ফোন করতে পারে । এটা নিয়ে কিছুটা অভিমান অবশ্য রামিম করতেই পারে । তবে সেখানেও একটু সমস্যা আছে । জয়ন্তীর মোবাইল নেই ।

 

হঠাত্‌ সিমেন্স সি ৩৫ মোবাইল ফোনের কুঁ কুঁ আওয়াজে রামিমের চিন্তায় বাধা পড়ে । ফোন করেছে সামান্তা ।

-- ঐ রামিম , শুনলাম তোর নাকি '' তোর কপালে আমার পা '' টাইপ অবস্থা ?

( অনেক কষ্টে রামিম হাসি চাপিয়ে রাখে । এই মেয়ের মুখে ভাল কথা আসা করা ও অলীক বস্তু )

: এটা আবার কি জিনিস ?

-- কোনটা ?

: এই যে '' আমার কপালে তোর পা '' । এর মানে কি ?

-- এর মানে হল  খুবই কাহিল অবস্থা । কি হইছে তোর ? ক্যান্সার ফ্যান্সার নাতো আবার !

: তোর মুখে 'সু' ডাক শুনলাম না কখনো । জ্বরের যন্ত্রণায় বাঁচি না , আর তুই ফাইজলামির দোকান খুলে বসলি ।

-- আচ্ছা বাদ দে । আজকে জয়ন্তীর বাসায় গিয়েছিলাম । সে বেচারি বাসায় আটকে আছে । কলেজ বন্ধ ; বাসা থেকে বের হবার কোন কারন নেই । আগামিকাল আসফাক স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ে আসার পথে আসতে পারি সবাই । কাল পর্যন্ত জ্বরটা ধরে রাখ । তাহলে জয়ন্তীর সেবা পেলেও পেতে পারিস ।

: সত্যি সত্যি আসবি নাকি তোরা ! আমার তো মনে হয় জ্বর আরেক ডিগ্রি বেড়ে গেল ।(গ্যাপ দিয়ে তুমি আসলে আমার ও একই অনভুতি হয় ঃপ)

-- আচ্ছা তুই জ্বর বাড়াতে থাক । মা ডাকছে , আমি গেলাম ।

 

                  রামিম মোবাইলের নীলাভ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে অনেক্ষণ ।

 

 

 

সুলতানা চিকন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার ছেলের দিকে । তার ভাবতেই অবাক লাগছে , তার ছেলে এত বড় হয়ে গেছে । যে ছেলেকে তিনি নিজের মাঝে আড়াল করে এত বড় করেছেন , কোন মেয়ের ছায়া মাড়াতে দেন নি কোন দিন , আজ তার সামনেই রামিম বসে আছে ৪-৫ জন বান্ধবীর মধ্যে । নিজের চোখ কে বিশ্বাস করে পারছেন না তিনি । বার বার ঝাপসা হয়ে আসছে তার দৃষ্টি । জয়ন্তী , রামিমের কপালে হাত রাখতেই সুলতানার ভেতরটা কেমন জানি মোছড় দিয়ে উঠে । তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন , সবাই চলে যাবার পর আজকে তিনি রামিম কে কিছু কঠিন কথা বলবেন । বড় অনিচ্ছায় তিনি কিচেনের দিকে গেলেন ।

 

'' মাসে দুই তিন বার জ্বর হওয়া ভাল কথা না । ডাক্তার দিখিয়েছ ? '' জয়ন্তীর অভিমানী কন্ঠ ।

'' হুমম । চিন্তা করো না । সেরে যাবে । তুমি যাবার সময় মনে করে টেবিলের উপর রাখা খাতাটা নিয়ে যেও । ''

'' আর তোমার প্রেক্টিকেল খাতা ! কিছুই তো লিখনি । আমাকে দিয়ে দাও । আমি লিখে দিব । ''

'' না না , আমি লিখে নিব ; সমস্যা নেই । ''

 

ওদের কথার মাঝখানে সামান্তা ঢুকে পড়ে । '' আপনাদের প্রেমালাপ শেষ হলে আমরা এখন উঠি ! ''

এককথায় সবাই উঠে দাঁড়ায় । সামান্তা রামিমের আম্মুর খোঁজে ভেতরে চলে গেল । জয়ন্তী খাতা নিতে গিয়ে রামিমের টেবিল গুছাতে শুরু করে । এই ফাঁকে সে রামিমের প্রক্টিকেল খাতা খুলে দেখে আসলে কিছুই করে নি সে । খাতাগুলোও নিজের ব্যাগে নিয়ে নিল জয়ন্তী । সুলতানা সবাই কে বাড়ির দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসেন ।

 

 

 

                            বাড়ি ফিরে রামিমের খাতা খু্লতেই জয়ন্তীর মনটা তীব্র ভাললাগায় ভরে গেল ।  মুক্তার মতো হাতের লেখা,  রামিমের লেখা আরো একটা কবিতা ।  কবিতটা হাতে নিয়ে জয়ন্তীর ভেতর থেকে একটা করুণ দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে ; '' এই ছেলে কি কখনো জানবে সে তাকে কতটা ভালবাসে ! '' । জয়ন্তীর মনে পরে , রামিম একবার বলেছিল - '' সব মানুষের ভেতর একটা সাপ বসবাস করে । তাই আমরা মাঝে মাঝেই ফুঁসফাঁস করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি । আমি সাপ ভয় পাই । সুতরাং আমার সাথে যতক্ষণ থাকবে কোন ধরনের ফুঁসফাঁস চলবে না '' । জয়ন্তীর হাসি পায় । এমন ফিলোসফি রামিমের মাথায় প্রায়ই আসে । আহা ! তার কথাগুলো তার কবিতার মতই সুন্দর । কবিতাটা পড়তে থাকে জয়ন্তী ............

 

আলাপ :

_ কি ওটা তোমার হাতে ?

: এটা ? এটা একটা শাড়ি ।

_ ওটা তো নীলাম্বর ।

: তোমার আদুড় গায়ে জড়ালেই মনে হবে নীল কাতান । আর তুমি হবে '' সোনাবউ'' (আমারই সোনাবউ।।আমাকেতো  কোন নামই দাও নাই :()

_ কিন্তু আমি যে সাধারন কোন নারী ।

: একটু অপেক্ষা করো তবে । এবার দেখো ।

_ কি ওটা ? ওটা তো চাঁদ ।

: তোমার ভ্রু-যুগলের মধ্যে বসিয়ে দেখতে চাই , কে উর্বশী ? তুমি , না এই শারদ শশী ।

_ কিন্তু আমি যে চাঁদের কলঙ্ক মাথায় নিয়ে ঘুরতে চাই না । আমি চাই, তুমি হাত রাখ আমার কপালে / বুড়ি চাঁদ, ভেসে যাক সুখের বেনোজলে ।

: এবার একটু খেয়াল করে দেখো ; দেখতে পাচ্ছ ?

_ কি ওটা ?

: এটা একটা দ্বীপ ।

_ কি আছে ওখানে ?

: ওখানেই আমার নিবাস । ইট কাটের দালান । তুমি খানিক '' ভ '' ছড়ালেই হয়ে উঠবে ঘর । বিশ্ব চরাচরে আমাদের দ্বীপ হবে একমাত্র বাতিঘর ।

_ আর আমরা হবো তার আলোকবর্তিকা ।     (হবে তো আমার  আলোকবর্তিকা?)

                            _________________________________________________           

                         রামিম তার রুমের দরজায় বড় করে লিখে রেখেছে ...                          

            " কেয়ামত ঘনিয়ে আসছে । প্রস্থুতি চলছে । প্লিজ বিরক্ত করবেন না । "

সুলতানা নিজের ছেলের কর্মকান্ডে বেশ মজা পেলেন । একবার ভাবলেন ছেলেকে ডাকবেন না । পরে আবার কি চিন্তা করে ডাকলেন '' রামিম , বাবা দরজাটা একটু খোল । "

রামিম দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে । হাসি হাসি মুখ । '' কিছু বলবে মা ? "

'' না , তেমন কিছু না । শরীর কেমন এখন ? কিছু খাবি ? "

'' মা , আমার শরীর ভাল । আর এখন কিছু খাবো না । সামনে পরীক্ষা , অনেক পড়া । তুমি কি আর কিছু বলবে ? ।"

                       সুলতানা খেয়াল করলেন , রামিম দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে । " সে কি চায় না  আমি ভেতরে যাই , একটু বসি । ছেলেটা খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে   " সুলতানা মনে মনে ভাবছেন ।

 

" আমি একটু বসি তোর পাশে । তুই পড়তে থাক । "

রামিম সরে গিয়ে টেবিলে গিয়ে বসল । " মা , তুমি কিছু বলতে চাও ; বলে ফেল   । "

" আচ্ছা ঐ দিন যে মেয়েগুলো আসলো । মানে , তোর সাথে যে পড়ে । ওরা কি সবাই তোর বান্ধবী ? " সুলতানা ছেলের দিকে পলকহীন তাকিয়ে আছেন ।

" হ্যাঁ মা , ওরা সবাই আমার বান্ধবী । কেন ? "

" আচ্ছা , ওদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে , যে বান্ধবীর থেকে একটু বেশী কেউ ? "

রামিম সুলতানার দিকে তাকালো । একটু ভয় ভয় লাগছে তার । তার মা কিছু বুঝে ফেললো না তো !

" না মা , তেমন কেউ নেই । হলে তোমাকে জানাবো  " রামিম হাসতে থাকে ।

                                সুলতানা আর কিছু বললেন না । তিনি তার নিজের ছেলেকে দেখছেন । এই তো সেদিন কার কথা । সামান্য শামুক দেখে ভয় পেয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বসে ছিল অনেক্ষণ । আজ কত বড় হয়ে গেছে । কোঁকড়ানো চুল , বাঁশির মত নাক , মেয়েদের মত টানা টানা চোখ । যে কোন মেয়েই তো তার ছেলের প্রেমে পড়বে । কিন্তু রামিম অন্য যে কোন ছেলের মত না , সেটা তার জানা দরকার । তাকে এখন সব না বললে দেরী হয়ে যাবে হয়ত । কিন্তু কিভাবে বলবেন তা-ই মনে মনে গুছিয়ে নিলেন সুলতানা ।

        '' আচ্ছা রামিম , বাবা তোর কেমন মেয়ে পছন্দ ? ।"

" তোমার এমন ফালতু কথা বন্ধ হলে আমি এখন একটু পড়া লেখা করতে চাই আম্মা । " রামিম কিছুটা বিরক্ত হয় ।

" ফালতু কথা না বাবা । শোন , তুই বড় হলেই তোর জন্য স্নিগ্ধ একটা মেয়েকে বউ করে আনবো । কিন্তু এখন কোন মেয়ের আশেপাশে যাসনে বাবা । কোন মেয়েকেও তোর কাছাকাছি আসতে দিবি না । তুই হলি শুদ্ধ ছেলে । মেয়েদের ছায়া , যে কোন মেয়েদের সঙ্গ তোর জন্য খারাপ হবে । এই যে তোর ঘন ঘন জ্বর হয় , আমার মনে হয় এসব করনে । তুই যখন ছোট ছিলি তোর এরকম জ্বর হতো । পাড়ার অনেক মেয়েরাই তোকে কোলে নিতে চাইতো । আমি কত ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়েছি । শেষে এক হুজুর আমাকে বলেছিলেন , তুই বড় না হওয়া পর্যন্ত তোকে যেন মেয়েদের থেকে দূরে রাখি । মেয়েদের অনেক ধরনের অসুখ হয় । এই সময় তুই মেয়েদের কাছে গেলে তোর জন্য খুব খারাপ হবে । বাপরে ! আমি তোর মা , মা-বাবার কথা শুনতে হয় । তুই বড় হলে, যে মেয়েকে তুই বলবি তার সাথেই তোকে বিয়ে দেব । "

" আমি আর কত বড় হবো মা ! আমার মাথা এই বাড়ির ছাদ ফুঁড়ে আকাশ স্পর্শ করলে তবে ? " রামিম হাসে ।

" আমি জানি না । তবে আমি তোর মা , আমার কথা তুই না শুনলে তোর জন্য খারাপ হবে । " বলেই সুলতানা হন হন করে রুম থেকে বের হয়ে যান ।

                       রামিম তাকিয়ে থাকে সুলতানার চলে যাওয়ার দিকে । তার সহজ সরল মায়ের সহজ কথা গুলো তার মাথার ভেতর ঘুরতে থাকে । সে নিজেই বুঝতে পারে না এই সাধারন কথা গুলো  তার জীবনে কি রহস্যই না নিয়ে আসেবে ।

 

 

                              ____________________________________________________

 

 

আজ জয়ন্তীর "না" দিবস । সকালে তার ছোট বোন এসে বললো " দিদি আম্মু ডাকে তোমাকে । এখন আসো "

জয়ন্তী চোখ না মেলেই বলল  " না " । সে-ই থেকে " না " দিনের অশুভ সূচনা । আজকের সব কিছু না-র উপর দিয়ে যাবে । আজ সে কোথাও যাবে না । এমন কি রুম থেকেও বের হবে না । সামনে এইচ,এস,সি পরীক্ষা । জয়ন্তী এইটা নিয়ে খানিকটা চিন্তিত । "না " দিবসের কারনে সারাদিন পড়ালেখা না হওয়ার একটা বড় সম্ভাবনা আছে ।  কারন একটু পরেই তার আম্মু এসে বলবে , পড়তে বসতে । কিন্তু না দিবসের কারনে তার পড়া হবে না ।

 

                             বিকেলে জয়ন্তীর মা এসে বললেন , তারাতারি রেড়ি হয়ে নিতে , মার্কেটে যাবেন । জয়ন্তী জানিয়ে দিয়েছে সে এখন কোথাও যাবে না । এর একটু পরেই জয়ন্তী নিজেই আফসোস করতে থাকলো । এমন দিনে তার মা কেন বলতে এলো মার্কেটে যাবার কথা !

                             সিডি প্লেয়ারে বড় করে গান ছেড়ে দেয় জয়ন্তী ...

                                     চমকিবে ফাগুনেরও পবণে                                   

                                    বসিবে আকাশবানে শ্রবণে

                                    চিত্ত আকুল হবে অনুক্ষন- অকারণ

                                   ‘দূর হতে আমি তারে সাধিব

                                    গোপনে বিরহডোরে বাঁধিব’

                                    বাঁধনবিহীন সে যে বাঁধন- অকারণ

                                    মায়াবন বিহারীনি

                                    হরিনী গহন স্বপন সঞ্চারীনি (গান টা আমার ও অনেক পছন্দের)

এমন সময় জয়ন্তীর ছোট বোন এসে বলে , " দিদি নিচে আসো "

" না "

" রামিম ভাই আসছে । না আসলে থাকো "

জয়ন্তী চেতনায় ফিরে আসে । " সুপ্রি , দিদিমনি ; আম্মু- আব্বু কই ? "

" একটু আগে বের হয়ে গেছে । "

" গ্রেট । রামিম কে আমার রুমে নিয়ে আসো না , দিদি মনি । প্লি...জ ।  "

                রামিম বসে আছে জয়ন্তীর রুমে । গুছানো রুম । জয়ন্তী সামনের দোকানে গেছে কোক আনতে । জয়ন্তীর ডায়েরীটা পড়ার টেবিলের উপরেই ছিল । আশেপাশে তাকিয়ে একের পর এক পাতা উল্টাতে থাকে রামিম । হঠাত্‌ একটা পাতায় চোখ আটকে যায় রামিমের । তাকেই সম্বোধন করে লেখা । পড়তে থাকে সে ............

                              রামিম ,     আমি জানি  আমি  যা -ই লিখি  না কেন  খুব  বাড়িয়ে  চড়িয়ে  দেখলে ও তাকে তোমার সামান্য একটা কবিতার সামনে দাঁড় করানো যাবে না । আমি ধাঁধায় পড়ে যাই , কোনটা বেশী বড় আমার কাছে , তোমার অজস্র লেখায় জেগে উঠা পাঁজরের প্রবিষ্ট প্রেম , নাকি আমার দিকে তাকিয়ে , চোখে চোখ রেখে তোমার বলে যাওয়া ভালবাসার উপাখ্যান ? আমি তো আমার মতই অসম্প্রর্কিত জ্ঞানে এতদিন উপস্থাপন করেছি আমাকে  । তুমি কি বুঝতে পারো , তোমার প্রতিটা কথার কদর্থ কারার ভেতরে লুকানো অর্থ । যদি বুঝতে তবে তুমিও  একদিন জেনে যেতে মেয়েদের জীবনের প্রথম পাঠ লুকোচুরি ।                            

              যেদিন আমি তোমার হয়ে যাব , কিংবা দুজন দুজনার ; সেদিন কিভাবে লুকাবো আমার ভেতরের চঞ্চলতা ?(প্রশ্নটা তোমাকে ও করলাম কোথাই লুকাবে?)

নীচে জয়ন্তীর আওয়াজ শুনতে পায় রামিম । ডায়রী রেখে প্রেক্টিকেল খাতায় চোখ বুলাতে থাকে সে । তার বুকের ভিতর একটা অচিন পাখি ডাকতে থাকে অবিরাম । কোন ভাবেই থামাতে পারেনা সে সেই ডাক । সেদিন যখন শিশু একাডেমীতে জয়ন্তী এসেছিল , তখন ও রামিম জানতো না জয়ন্তী তাকে ভালবাসে । সেদিন জয়ন্তী যা বলেছিল সেটা নামহীন কোন সম্পর্কের কথা । ঠিক বন্ধুত্ব ও নয় তার চেয়ে বেশী কিছু । তবে সেটা ভালবাসা ও তো ছিল না । গত একবছরে তাদের যে সম্পর্ক , খুব অনর্থ করলেও তাকে কোনভাবে প্রেম বলা যাবে না । জয়ন্তী হয়ত চায়নি ধর্মের মত একটা  নিশ্চিত বাঁধা তাদের দুজনের সম্পর্ককে  আরো অনিশ্চিত করে দিক ।

      " জ্বর কুমারের কি খবর " জয়ন্তী হাসতে হাসতে রুমে ঢুকে ,

'' ভাল । বেশ কয়দিন ধরে প্রেক্টিকেল খাতা গুলো খুঁজছিলাম । সেদিন বলোনি তো তুমি নিয়ে আসবে ! "

" ভাবলাম তোমার শরীর খারাপ । আমিই লিখে দেই । ...কোক নাও । আর কিছু খাবে ? "

"না "

" এমনি জিজ্ঞেস করলাম । মা বাসায় নেই । আর আমি রান্না পারি না । সো ... "

" বললাম তো , আমি ঠিক আছি । "

" তোমাকে অনেক দিন দেখি না । আমি যখন তখন বের হতে পারি না । তুমি তো আসতে পারতে ! কি এমন ব্যস্ততা তোমার ? "

                কোন কথা বলে না রামিম । বইয়ের পাতা উল্টাতে থাকে ।

" এক কাজ কর বইটা বাসায় নিয়ে যাও । রামিমচন্দ্র বিদ্যাসাগর । যেখানে যাও , সেখানে পড়া শুরু !  "

             রামিম হাসে ।

" আচ্ছা জয়া , আমাদের দুজনের যে সম্পর্ক তার নাম কি ? " রামিম পূর্ণদৃষ্টিতে জয়ন্তীর দিকে তাকিয়ে থাকে ।

জয়ন্তীকে কিছুটা অন্যমনস্ক মনে হয় ।

" হঠাত্‌ এই প্রশ্ন ? "

" এমনি । বলো না "

" কি জানি ! তুমিই একটা নাম দাও না । " ..................হেয়ালী করে জয়ন্তী । হঠাত্‌ তার চোখ পড়ে টেবিলের উপর রাখা ডায়রীর উপর । সে বুঝে উঠতে পারে না , কি করবে ?

" তুমি পড়ছো ওটা  !!!!!!!!! " চিত্‌কার দিয়ে উঠে জয়ন্তী ।

" হুমম  "  ।           

 

             পলকহীন তাকিয়ে আছে রামিম জয়ন্তীর দিকে । থর থর করে কেঁপে উঠে জয়ন্তীর ভেতরটা । রাশি রাশি অব্যক্ত কথা খসে পড়তে থাকে । শরীরের সমস্ত পানি ফুলে ফেঁপে জমতে শুরু করে তার চোখের কোনে ।

         রামিম ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় জয়ন্তীর দিকে । তার মনে হয় কে জানি তার পায়ে মোটা লোহার শেঁকলে বেড়ি পরিয়ে দিয়েছে । আচানক থমকে গেছে সব কিছু । পৃথিবীর সবচে রূপসী রাজকন্যাদের একজন তার সামনে বসে কাঁদছে । এমন বিরল মুহুর্তে সে জানে না তার কি করা উচিত । রামিম হাঁটু গেড়ে বসে জয়ন্তীর সামনে ।

          এরপর যা হলো সেটা কোথাও কোন এক অদৃশ্যলোকে বসে কেউ একজন হয়ত ভেবে রেখেছিলেন । কিন্তু মিলনে বিশ্বাসে এই দুজন নর নারীর কেউই এর আগে ভাবেনি । কারন এর আগে দুজনের এতো কাছাকাছি দুজন কখনো আসেনি । যেখানে দুজনের শ্বাস-প্রশ্বাস মিলে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে । শুষ্ক-রুক্ষ্ণ পৃথিবী শুষে নিচ্ছে শরীরের শেষ জলকনা । যেন দুজনের অধরে এতো পিপাসা আগে ছিলো না । দূরে দূরে থেকে চুপসে যাওয়া জয়ন্তীর ঠোঁটের তিলটা এতদিন পর যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে ।  উথলি যখন উঠেছে তাদের মনের বাসনা জগতে তখন কিসের ডর !

                       ____________________________________________________

 

                              সেই চিরায়ত রহস্যময় সন্ধ্যা । কিছুক্ষণ হলো রামিম বাসায় ফিরেছে । পড়ার টেবিলে ঝিম মেরে বসে আছে । তার কাছে সব কিছু অপরিচিত মনে হয় । মনে হয় শুধু সে স্থির আর সব কিছু তাকে পাশ কাটিয়ে ছুটে যাচ্ছে । অবিরাম সে ছুটে চলা । যেন গন্তব্যে পৌঁছানোর ক্লান্তিহীন তাড়া সবার , সবকিছুর । টেবিলে পাশেই পানির বোতল রাখা । পুরা এক বোতল পানি খাওয়ার পরও তার মনে হয় আরো পানি দরকার । আহারে নিদাঘ তিয়াসা ! ঘাড় থেকে শুরু , এর পর সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে যন্ত্রনা । তার  আর বুঝতে বাকি নেই , আবার ধেয়ে আসছে বিরামহীন যন্ত্রনার সেই পরিচিত রাত । সে রাতেই গাঁ কেঁপে জ্বর আসে রামিমের ।

                      একদিন , দুইদিন , এভাবে অনেকদিন ; রামিমের প্রতি রাতে গাঁ কেঁপে জ্বর আসে । সে বছর তার আর ফাইনাল পরীক্ষা দেয়া হয় না । চিকিত্‌সার জন্য রামিম কে ঢাকায় তার মামার বাসায় নিয়ে রাখা হয় । অনেক পরীক্ষা- নিরিক্ষার পর ডাক্তার জানায় তার যে জ্বর আসা যাওয়া সেটা নিতান্তই সিজনাল । রামিম আস্তে আস্তে সুস্থ্য হয়ে উঠে । তবে মাঝে মাঝে তার জ্বর এখনো হয় । অপবিত্র শরীরে অল্প কিছুক্ষন থাকলেই শুধু তখন । পবিত্র-অপবিত্র কিংবা শুদ্ধ-অশুদ্ধতার সাথে জ্বর আসার এই বিষয়টা তার কাছে বেশ হাস্যকর মনে হয় । তারপরও প্রকৃতি যে রহস্যের খেলা খেলছে তা তার কাছে অপরিস্কার আর ঘোলাটে থেকে যায় । কৌতুহল বসত মাঝে মাঝে দু একজন বান্ধবীর সাথে " এ জার্নি বাই রিক্সায় " গিয়েছে । ফলাফল আগেরটাই ।

                     দীর্ঘদিন হয় রামিম জয়ন্তীর দেখা হয় না । অনেকবার ট্রাই করেও রামিমের কোন খোঁজ পায়নি জয়ন্তী । রামিম তখন আর মোবাইল ইউজ করে না । এইচ,এস,সি পরীক্ষার পর সবাই ইউনিভার্সিটি কোচিং করতে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে । রামিম ঢাকায় থেকে এই্চ,এস,সি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয় । ঢাকা সিটি কলেজে রেজিস্ট্রেশন ট্রান্সফার করে নেয় ।

গ্রীষ্মের কোন এক বিজন দুপুরে রামিমের লেখা চিঠি পড়ে নিশ্বব্দে কেঁদে ঊঠে জয়ন্তী ।

                              জয়ন্তী ,

                          কেমন আছো ?

            আমাদের ভালবাসা নিয়ে তোমার লুকুচুরির মত আমার গায়ে জ্বর আসা যাওয়া এখন কিছুটা কমেছে । তোমার কি খবর ? এখনো রাগ করে আছো ? কি বলা যায় তোমাকে ! ভাবছি , কি বললে তুমি আমাকে এতটুকু ক্ষমা করতে পারবে ।

            দেখলে , প্রকৃতি কি নিষ্ঠুর মজাটাই না নিল ! আমাদের প্রেম নিয়ে তারা কত রকমের রহস্যই না করেছে । প্রথমে ধর্ম , এরপরে পবিত্র-অপবিত্রতার হাস্যকর প্রতিবন্ধকতা । জয়া , কিন্তু এসব সবই সত্যি । আমরা তো কখনোই চাইনি যেমন তেমন ভাবে ভালবেসে কাটিয়ে দিতে আমাদের আজ , কাল । তাহলে এই বিষয়গুলো বারবার ফিরে ফিরে আসবে আমাদের সামনে প্রতিনিয়ত । একবার না বুঝে কবিতায় লিখেছিলাম , '' প্রতি রাতে আমার গা কেঁপে জ্বর আসে , সে-তো তোমার কারনে ।" । আজ সত্যি বলেই মেনে নিতে হচ্ছে । পারলে আমাকে ক্ষমা করো । আমিই নিজেও বিষয়টা নিয়ে খুব একটা স্বস্থিতে নেই । আমার এখন নির্মলেন্দু গুনের মতই লিখতে ইচ্ছে করে ,

                           " এখন আমার হৃদয়ে আর প্রেম নেই, ভালোবাসা নেই,                            

                             বাসনার আলোড়ন নেই, আজ আমারও হৃদয়ে শুধু ঘাস,                            

                             শুধু স্মৃতি, শুধু স্মৃতি, শুধু স্মৃতি আর স্মৃতির দীর্ঘশ্বাস। "

যদি কখনো তোমার সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাই , তবে তোমার সামনে গিয়ে দাঁড়াবো । পুরানো প্রেমের দাবি নিয়ে নয় । আমি একদিন তোমার পাঁজরে যে প্রেম জাগিয়েছিলাম তার পরিচার্যা করতে পারিনি , তার জন্য ক্ষমা চাইতে ।

 

                                                                                               " জ্বর কুমার "  

                 _____________________________________________________________________

রামিম- জয়ন্তীর প্রেম কাহিনী এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারত  ।

কিন্তু প্রকৃতির বোধয় আরো কিছু রহস্য বাকি ছিল । অথবা ...

               ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে রামিম । পেছন থেকে কে যেন ডেকে উঠে । তার মনে হয় বহুকাল আগে শুনা কোন এক ডাহুকের ডাক ।

" এখনো কি প্রতিরাতে গা কেঁপে জ্বর আসে তোমার ?" ...কথাটা বলতে গিয়ে ঝাপসা হয়ে আসে জয়ন্তীর চোখ ।

রামিম জয়ন্তীর কিছুটা কাছে এসে অপার মমতায় জানতে চায় ...

              " তোমার চোখ এতো লাল কেন  ? (আমি যখন আসব তখন কি তোমার চোখ ও লাল থাকবে?)

(collected)


প্রেমিক ও প্রেমিকার কথোপকথন-
প্রেমিকা: আচ্ছা বলতে পার কেন তুমি আমাকে এত পছন্দ কর? ভালোবাসো ?
প্রেমিক: জানি না, কিন্তু বাসি যে ভালো এতে কি কোন সন্দেহ আছে?
প্রেমিকা: হুঃ তুমি কারনই বলতে পারলে না, আবার বলো ভালোবাসি। যতসব ভন্ডামি।
প্রেমিক: আমি সত্যিই কোন কারন জানি না কিন্তু প্রমান চাইলে দিতে পারি।
প্রেমিকা: প্রমান !!! না কোন প্রমান না আমি তোমার কাছে কারন জানতে চাই।
প্রেমিক: আচ্ছা... আচ্ছা বলছি........
আমি তোমাকে ভালোবাসি কারন,
-----তুমি সুন্দর।
-----তুমি দ্বায়িত্ববান।
----- তোমার চালচলন ভাল লাগে।
----- তোমার হাসি ভাল লাগে......... আরো কতোকি .........
এই কথা শুনার পর প্রেমিকা প্রায় তার প্রেমিকের ভালোবাসা দেখে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যায়।
.
.
.
.এর কিছুদিন পর এক মারাত্মক রোড এ্যাকসিডেন্টে মেয়েটির সমস্ত শরীর পুড়ে যায়
এবং সে কোমায় চলে যায়.....
কোমা থেকে যখন মেয়েটি ফেরত আসে তখন তার আর অতীত বলে কোন স্মৃতি থাকে না। কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, দৃষ্টিশক্তি থাকে না, থাকে না সেই উচ্ছ্বল হাসিও।
তখন একদিন ছেলেটি বলে ডার্লিং একদিন আমি তোমাকে বলেছিলাম কেন আমি তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু আজ তোমার সেই সৌন্দর্য, চেহারা কথা হাসি কোনটাই নেই। এমনকি তুমি আমার কথা শুনতেও পারছ না আর দ্বায়িত্বতো অনেক দুরের ব্যাপার। যদি তোমার মতে আমি চলি, তাহলে আজ তোমাকে ভালোবাসার কোন কারন নেই কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি, কোন কারন ছাড়াই ভালোবাসি....... ...

তুমি বলেছিলে কেন তোমাকেই ভালোবাসি কেন তোমাকেই বিয়ে করতে চাই।আশা করি বুজতে পেরেছ।


একটি ছেলে তার প্রেমিকার "আমি তোমাকে ভালবাসি, তোমাকে মিস করি" এই টাইপ মেসেজ পেতে পেতে বিরক্ত হয়ে যেত ! এক রাতে প্রেমিকার কাছ হালকা কথা কাটাকাটির পর সে মোবাইল সাইলেন্ট করে দিলো, অনেকগুলো ফোন আসলো, একটি মেসেজ আসলো, কিন্তু সে সেটি না পড়ে ঘুমিয়ে গেল।
পরদিন ভোর বেলায় মেয়ের মা'র ফোনে তার ঘুম ভাঙ্গল। মা বললেন, তার মেয়ে গতকাল রাতে এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে। বাকরুদ্ধ ছেলেটি তখন মেসেজটি চেক করলো। লেখা ছিল --
" প্লিজ, তুমি বাসার সামনে বের হও, তোমাকে দেখতে অনেক ইচ্ছে করছিল, তাই কাউকে না জানিয়ে এত রাতে বের হয়েছিলাম, আমি এক্সিডেন্ট করেছি, আমার অবস্থা খুবই খারাপ, একবার তোমাকে দেখবো, আই এম সরি....:("


test.......

Posted by: Juzz

Tagged in: Untagged 

blog test


আমি : আচ্ছা, পৃথিবীর সব প্রেমিকাই তার প্রেমিককে সিগারেট খেতে নিষেধ করে, নানা রকম ভয়ানক শর্ত জুড়ে দেয়! তুমি আমার সব বিষয়ে বিধি-নিষেধ আরোপ করলেও সিগারেট প্রসংগে কিছুই বলোনা, ব্যাপারটা কি বলো তো? তুমি আমায় নিষেধ করোনা কেন ?? সে : আমি নিষেধ করলেই তুমি সিগারেট ছেড়ে দিবে ?
আমি: উমমম... (কিছুক্ষণ ভেবে চিন্তে) না! না আবার হ্যাঁ...
সে: না আবার হ্যাঁ কেন ?
আমি: নিষেধ করার সাথে সাথেই তো ছেড়ে দিতে পারব না (কিছুটা বিব্রত ভঙ্গিতে আমতা আমতা করে)!
সে: আর হ্যাঁ কেন?
আমি: তুমি একটা কাজ নিষেধ করবে আর আমি সেটা করবো ??
সে: হুমমম... এই কারণেই আমি তোমাকে নিষেধ করিনি।
আমি: বুঝিনি, বুঝিয়ে বলো...
সে: শোন, তোমাকে একদিন সিগারেট প্রসংগে জিজ্ঞেস করেছিলাম । তখনো তোমাকে আমি ভালবাসতে শুরু করিনি... তোমার মনে আছে ?
আমি: নাহ্। কি জিজ্ঞেস করেছিলে ? আর আমি কি উত্তর দিয়েছিলাম ?
সে: আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, "সিগারেট কেন খান? কি মধু আছে এতে?"
তুমি বলেছিলে, "কেন খাই জানিনা, তবে সিগারেট নিঃসঙ্গতার অনুষঙ্গ । হুমায়ুন আহমেদের ভাষায়, সিগারেট এক ধরণের আশ্রয়।"
আমি: তো ?
সে: দ্যাখো, আমি জানি, আমি যদি তোমাকে নিষেধ করি, তুমি সিগারেট ছেড়ে দিবে।
৩-৪ দিন কিংবা এক সপ্তাহ তুমি সিগারেট খাবে না। কারণটা হলো, ঐ যে-তুমি বলেছিলে, সিগারেট নিঃসঙ্গতার অনুষঙ্গ, সিগারেট এক ধরণের আশ্রয়। এক সপ্তাহ পর তুমি আবার সিগারেট ধরবে। তখন হয়তো তুমি আমাকে বলবেওনা যে সিগারেট খাচ্ছ। কারণ তাতে আমি কষ্ট পাবো। আবার সিগারেট যেহেতু তোমার অনেক দিনের অভ্যাস এবং তোমার নিঃসঙ্গতার অনুষঙ্গ, তুমি সেটাকে ছাড়তেও পারবেনা। তখন কি হবে জানো? আমাকে মিথ্যে বলার কারণে তুমি নিজে নিজেকে অপরাধী ভাববে এবং এক সময় এই অপরাধবোধটাও আর কাজ করবেনা। আর অপরাধবোধ কাজ না করলে কি হবে জানো? তোমার-আমার মধ্যে বিশ্বাসটুকু হালকা হয়ে যাবে। আমি সেটা চাই না। আমি এও চাই না, তোমার আর মাঝখানে সিগারেট প্রতিদ্বন্দী হয়ে দাঁড়াক...
আমি: (ওর কথায় পুরোপুরি তাজ্জব বনে গেছি) তুমি এত চিন্তা করেছ এটা নিয়ে?
সে: হুমমম... অনেক ভেবেছি। আমি তোমার কাছ থেকে দোকানে আড্ডা মারা, সক্রিয় রাজনীতি করার ইচ্ছা, ওষুধ না খাওয়ার প্রবণতা, ক্লাস না করা, সারা-রাত ইন্টারনেটে বসে থাকা, সকালের ঘুম-সবই কেড়ে নিয়েছি। সিগারেটটাও নিতে পারতাম। কিন্তু ঐ যে, তোমার নিঃসঙ্গতার অনুষঙ্গ!! সিগারেটটাও যদি কেড়ে নিই, তাহলে তোমার নিজের আর কি থাকলো বলো? তাতে যদি তুমি আরো একলা হয়ে যাও...
আমি: (আমার চোখ টলমল করছে ওর কথায়! স্রষ্টা আমার প্রতি এতটা করুণাময় হবেন ভাবিনি। ও এত মায়াবতী কেন ?) হুমমম...
সে: হুমমম... কি? এখন আমি যেটা চাই সেটা শোন, তুমি আস্তে আস্তে সিগারেটটা ছেড়ে দাও। আমি খুব খুশি হবো... আমি তোমাকে জোর করব না। তুমি নিজের মত করে চেষ্টা করবে। একটু একটু করে কমাতে চেষ্টা করবে। তুমি যেভাবে পারো, সেভাবে প্ল্যান করে চেষ্টা করো। আমি লক্ষ্য করেছি, সিগারেটের প্রতি আসক্তির পাশাপাশি তোমার এক ধরণের মায়াও আছে। এত সুন্দর সিগারেট বক্স আর লাইটারই তার প্রমাণ। এটা স্বাভাবিক, এত দিনের পুরোনো অভ্যাস, মায়া থাকবেই। যেদিন তুমি একদম ছেড়ে দিতে পারবে সেদিন আমাকে বলো... আমি খুউব খুউব খুউব খুশী হবো। আমার চেয়ে খুশী আর কেউ হবেনা...
আমি: হুমমম... চেষ্টা করবো, অবশ্যই করবো।
সে: আমি কি তোমার মন খারাপ করিয়ে দিলাম?
আমি: না, একদম নাহ্। কেন?
সে: এমনি বললাম ... (তারপর অনেক্ষণ চুপ) আচ্ছা শোন... তোমায় খুব জরুরী একটা কথা বলতে ভুলে গেছি....
আমি: কি?? বলো...
সে: কথাটা শুনে আবার রাগ করবে নাতো?
আমি: রাগ করবো কেন?? (কিছুটা টেনশান হচ্ছে, বাসায় কি কোন প্রোপোজাল আসলো নাকি??)
সে: (অনেক্ষণ চুপ) ...... "আমি তোমায় ভালোবাসি, অনেক অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি..."
আমি কিছু বলার আগেই লাইনটা ও কেটে দিয়েছে। তবু ফোন সেটটা হাতে নিয়ে অনেক্ষণ বসে রইলাম চুপচাপ...
তোমার আর আমার মাঝখানে সিগারেট প্রতিদ্বন্দী হতে পারেনা ! তুমি মিশে থাকো আমার শুদ্ধতার পৃথিবীতে... সিগারেটের ধোঁয়ায় সে পৃথিবীটা আমি কলুষিতকরবোনা। ।

তুমি কি কিছু টা অনুমান করতে পারতেছ।


তোমার চোখ এতো লাল কেন

Posted by: Eros

Tagged in: Untagged 

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে , আমি চাই
কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক,
শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরোজা খুলে দেবার জন্য ।
বাইরে থেকে দরোজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত ।
আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ আমাকে খেতে দিক । আমি হাতপাখা নিয়ে
কাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না,
আমি জানি, এই ইলেকট্রিকের যুগ
নারীকে মুক্তি দিয়েছে স্বামী -সেবার দায় থেকে ।
আমি চাই কেউ একজন জিজ্ঞেস করুক :
আমার জল লাগবে কি না, নুন লাগবে কি না,
পাটশাক ভাজার সঙ্গে আরও একটা
তেলে ভাজা শুকনো মরিচ লাগবে কি না ।
এঁটো বাসন, গেঞ্জি-রুমাল আমি নিজেই ধুতে পারি ।
আমি বলছি না ভলোবাসতেই হবে, আমি চাই
কেউ একজন ভিতর থেকে আমার ঘরের দরোজা
খুলে দিক । কেউ আমাকে কিছু খেতে বলুক ।
কাম-বাসনার সঙ্গী না হোক, কেউ অন্তত আমাকে
জিজ্ঞেস করুক : 'তোমার চোখ এতো লাল কেন ?'


নেশা মোফাজ্জল করিম

Posted by: Eros

Tagged in: Untagged 

বাপজান আশা করি কুশলেই আছেন,
পরসমাচার এই যে,
সেদিন আপনি যে কান্ডটা করিলেন
তার জন্য এই পত্রটি না লিখিয়া পারিতেছিনা
দেখিতেছি যতই বয়স বাড়িতেছে, ততই আপনার কান্ড
একেবারেই লোপ পাইতেছে!
আপনি কি করিয়া সেদিন আমার ড্রইংরুমে,
অর্থাৎ বৈঠকখানায় বেমোক্কা ঢুকিয়া পড়িলেন,
বুঝিলাম না
সারাগায়ে ঘামের গন্ধ, ময়লা তেল চিপচিপে পান্ঞ্জাবী,
বগলে ছেঁড়া ছাতা, মাথায় চিতিপড়া কিস্তি টুপি,
যেনো আকবর বাদশার উর্নিশ আর কি!
হাতে মাটির হাড়ি, সর্বোপরি দু'পায়ের চামড়ার
কুচ কুচে কালো রং, বোধহয় লজ্জায় ঢাকিয়া ফেলিবার
আশায়, রাস্তার সবটুকু ধুলি মাখাইয়া পা দু'টিকে মনে হইতেছিল চুনকাম করাইয়াছেন।
কি লজ্জা, আপনার ঐমূর্তি দেখিয়া আমার বন্ধুগন এবং তাদের সুন্দরী স্ত্রীরা, বজ্রাহতের মতো তাকাইয়া রহিলো।
যেনো তাহারা চাক্ষুস ভুত দেখিতেছে আর আমার অবস্হাটা একবার ভাবিয়া দেখুন,
মান, সম্মান, মর্যাদা সব জাহান্নামে গেল,
তাও-না হয়, আপনি যদি দয়া করিয়া একটু চুপ থাকিতেন
তবু একটা কথা ছিল!
তা-না আপনার আবার আহল্লাদে মুখ দিয়া
কথার ফোয়ারা ছুটিতে লাগিলোঃ
"বাবা কেমন আছো? বৌমা কোথায়?"
বলিহারে ভাগ্যিস সেই মুহুর্তে ও সেখানে ছিল না!
থাকিলে সে বেচারির হার্ট এটাক হইয়া যাইতো,
সে তো আবার হঠাৎ কোনো খারাপ দৃশ্য মোটেই সহ্য করিতে পারেনা,
বড় কোমল হৃদয়ের মানুষ কিনা!
বাপজান তোমাকে সাবধান করিয়া দিতেছি আর যাই করো, এইভাবে আমাকে ডুবাইয়ো না
টাকা-পয়সা লাগিলে চিঠি দিও পারিলে পাঠাইবো,
আর অতো টাকা পয়সাও যে কেন লাগে তোমাদের তাও বুঝিনা
তোমাদের আবার অতো খরচ কিসের
ক্লাবে যাওনা, পার্টি দাওনা ইসুবগুল, আর চিরতার পানি ছাড়া আরতো কোনো নেশাও করো না।
এইটুকু পড়িয়া দরিদ্র স্কুল মাস্টার পিতা আনমনে বলিয়া উঠিলেনঃ
না, না ভুল বললিরে বাবা
নেশা একটা আছে, বড় পুরানো নেশা
কিছুতেই ছাড়িতে পারিনা সেই নেশা
তোর জন্মের পর থেকে সারাক্ষণ তোকে দেখার নেশা কিছুতেই ছাড়িতে পারিনা বাপ, কিছুতেই ছাড়িতে পারিনা।।


23

Posted by: Eros

Tagged in: Untagged 

23 .........pore bolbo.....


বৃষ্টি ভেজা ভালবাসা

Posted by: Eros

Tagged in: Untagged 

টিপ টিপ বৃষ্টি পরছে ।
নিসঙ্গ ভেজা হাইওয়ে । হাইওয়ের পাশের গাছগুলো মৃদু বাতাসে দুলছে ।
ছাতা মাথায় নিসঙ্গ পথ ধরে আপনমনে হাটছে বন্যা ।
রাহুল আজকেও দেরি করতেছে । বিরক্ত লাগছে বন্যার ।
হাটতে হাটতে রাস্তার পাশে একটা গাছের নিচে গিয়ে দাড়ালো সে । দুচোখ ভরে দেখতে লাগলো ভেজা প্রকৃতির অদ্ভুত সোন্দর্যকে ।
হটাত্‍ পিছন থেকে সুন্দর গলায় কেউ গান গেয়ে উঠলো ।
"বৃষ্টি নেমেছে আজ , আকাশ ভেঙ্গে ,
হাটছি আমি এই মেঠো পথে ।
মনের ক্যানভাসে ভাসছে তোমার ছবি ।
বহুদিন তোমায় দেখি না যে ।"
গানটা এবং গান গাওয়া কন্ঠটা বন্যার অতি পরিচিতো । ঝট করে পিছনে ফিরলো সে ।
রাহুল দাড়িয়ে আছে । মুখে মিষ্টি হাসি । হাত দুটো ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে একসাথে ধরে আছে সে ।
"আর আসছো কেনো ? না আসলেই পারতা !" রাগত গলায় বলল বন্যা ।
"না । মানে . . . ইয়ে । ঐ যে রিকশা পাই নাই তো । তাই হেটে আসতে দেরি হয়ে গেছে ।" কাচুমাচু মুখে বলল রাহুল ।
--ঢং কইরো না । তোমাকে আমার চিনা আছে । তুমি ইচ্ছে করে হেটে আসছো । বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আসার জন্য ।
চুপ করে রইলো রাহুল ।
"চুপ করে আছো কেনো !" ধমকে উঠলো বন্যা ।
"না মানে । মজা লাগতেছে ।" মুচকি হেসে বললো রাহুল।
"কি ! আমার কথাগুলা তোমার কাছে মজা লাগতেছে !" আরো রেগে গিয়ে বলল বন্যা ।
"না মানে . . . .ক্লাসে যখন কোন ছাত্রের সবচেয়ে প্রিয় টিচারটা ছাত্রটাকে ইচ্ছেমত বকে । তখন যেমন অনূভূতি হয় । আমারও ঠিক একই অনূভূতি হচ্ছে ! আপনার কল্যানে আমি আবার আমার পিচ্চিকালে পদার্পন করতে পারলাম । আপনাকে ধন্যবাদ ম্যাডাম !" হাসতে হাসতে বলল রাহুল ।
রাহুলের এধরনের কথা শুনে আর রেগে থাকতে পারলো না বন্যা । হেসে ফেললো সে ।
বন্যার হাসি দেখে রাহুল গেয়ে উঠলো "আমার সপ্নে দেখা রাজকন্যা হাসে ,
সাত সাগর আর তের নদীর পাড়ে ।"
-সাগর-নদী কোথায় পাইলা ? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো বন্যা ।
রাহুল হাইওয়ের পাশে একটা ডোবাকে দেখিয়ে বলল "ধরে নাও ওটাই সাগর । তুমি রাজকন্যা । আর আমি রাজপুত্র । রাজকন্যা সাগরপাড়ে অধীর আগ্রহে বসে ছিলো কখন রাজপুত্র আসবে !
রাজপুত্র আসতে দেরি করায় রাজকন্যা তো মহাক্ষেপা ! রাজপুত্র আসলো । রাজকন্যার মন ভালো করলো ।আর রাজকন্যা আবার খিলখিল করে হেসে উঠলো" বলে মুচকি একটা হাসি দিলো রাহুল ।
বন্যা এবার আর হাসি আটকে রাখতে পারলো না । খিল খিল করে হাসতে লাগলো । হাসতে হাসতে চোখ দিয়ে পানি চলে এলো তার ।
হাসি থামতেই বলল "তুমি এতো সুন্দর করে কিভাবে ভাবো রাহুল ?"
রাহুল বন্যার হাত ধরে বললো "সুন্দর মানুষকে নিয়ে সুন্দর ভাবনাই আসে ।" বলেই একটা চোখ টিপ দিলো সে ।
বন্যা আস্তে আস্তে বলল"রাহুল তুমি আসলেই কি আমাকে ভালবাসো ? এভাবেই কি সবসময় আমার হাত ধরে রাখবে ?"
রাহুল বলল "যতটুক মনে পরে প্রথম প্রশ্নটার উত্তরটা ৪ মাস আগেই পেয়ে গিয়েছো । আর দ্বিতিয়টার উত্তর হলো আমি শুধু তোমার হাত না তোমাকেই ধরে রাখবো ।"
বন্যার চোখ তখন অশ্রুসিক্ত আর রাহুলের মুখে মিষ্টি হাসি ।
************************************
ছাতা মাথায় হাইওয়ের একটা গাছের শিকড়ের উপর বসে আছে বন্যা । তার চোখ থেকে টপ টপ করে পানি পরছে ।
রাহুল আজকেও দেরি করছে । বন্যার কিছুই ভাল লাগছে না ।
বৃষ্টিরও বিরাম নেই । টিপটিপ করে পরেই চলছে ।
ভেজা হাইওয়ে ধরে দৌড়ে এলো রাহুল । বন্যাকে এভাবে বসে থাকতে দেখে বুঝতে পারলো কোন একটা সমস্যা হয়েছে ।
আস্তে করে ডাক দিলো সে"বন্যা । রাজকন্যা ।"
বন্যা আস্তে করে মুখ ফিরিয়ে তাকালো রাহুলের দিকে । তার চোখ থেকে পানি পড়ছে । চোখ দুটো অসম্ভব লাল । বুঝা যাচ্ছে অনেক্ষন কেদেঁছে সে ।
রাহুলের বুকটা একটা মোচড় দিলো যেনো । আস্তে করে বললো "কি হয়েছে রাজকন্যা?"
কান্না জড়ানো গলায় বন্যা বললো "তুমি কথা রাখো নি রাহুল । আমি এখানে একা বসে ছিলাম । কতো মানুষ হেটে যাচ্ছিলো । তাকিয়ে দেখছিলো আমাকে । আর আমি একা ছিলাম । একদম একা । তুমি আমার পাশে থাকো নি ।"
রাহুলের বুকে যেনো শেল বিধলো । আস্তে করে বলল "বিশ্বাস করো বন্যা । আমি ইচ্ছা করে দেরি করিনি ।
ইদানিং খরচটা অনেক বেড়ে গেছে । তাই এই সময়ে একটা টিউশুনি থাকে আমার । তোমাকে বলিনি কেননা তাহলে তুমি আসতে না । তোমার ঐ সুন্দর মুখটাও আমার দেখা হতো না । বিশ্বাস করো অনেক চেষ্টা করি একটু তাড়াতাড়ি বের হওয়ার । কিন্তু হয়ে উঠে না ।
কিন্তু আমি সবসময়ই তোমার পাশে ছিলাম , আছি , থাকবো । অনেক ভালবাসি তোমাকে । অনেক" হড়বড় করে কথাগুলো বলে ফেললো রাহুল ।
বন্যা এসব কথা শোনার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলো না ।রাহুলকে এভাবে কথাগুলো বলায় এখন খারাপ লাগছে বন্যার ।
আস্তে করে বললো "রাহুল । im so sorry . . . মাফ করে দাও আমাকে , please . ."
রাহুলের মুখে হাসি ফুটলো । তার চোখে চিক চিক করছে পানি ।
হটাত্‍ বৃষ্টির বেগ বেড়ে গেলো । রাহুল দু হাত উজার করে বৃষ্টির স্পর্শ নিতে লাগলো । হটাত্‍ গান গেয়ে উঠলো সে
"বৃষ্টি নেমেছে আজ আকাশ ভেঙ্গে . . . হাটছি আমি. . "
এতটুক বলেই থেমে গেলো সে ।
কি যেনো ভাবলো । তারপর দৌড় দিয়ে হাইওয়ের পাশে ধানের ক্ষেতে নেমে পরলো ।নেমেই উচ্চস্বরে গান গাইতে লাগলো. . . .
"বৃষ্টি নেমেছে আজ আকাশ ভেঙ্গে ,
হাটছি আমি এ মেঠো পথে ।"
বন্যা অশ্রুসিক্ত চোখে , ঠোটে একটুকরো মধুর হাসি ফুটিয়ে রাহুলের ছেলেমানুষী দেখতে লাগলো ।
একটু দূরে গিয়ে রাহুল ইশারা করলো বন্যাকে । বন্যা হাতের ছাতাটা ছেড়ে দিলো । সেটা উড়ে গিয়ে পরলো ডোবাটাতে ।
বন্যা আস্তে আস্তে ক্ষেতের আইল দিয়ে হেটে আসলো রাহুলের দিকে ।
রাহুল তার দিকে একটা হাত বাড়িয়ে দিলো । লাজুকভাবে হাতটা ধরলো বন্যা ।
রাহুল গাইতে লাগলো . . . .
"এ পথ যদি শেষ না হয় , তবে কেমন হতো তুমি বলো তো. . . "
অঝোরে বৃষ্টি পরছে তখনো । আকাশের একপ্রান্তে একটুকরো রংধনু ফুটে উঠেছে । যেনো তাদেরকে দেখেই প্রকৃতি সাতরং এর মাধুরী মিশিয়ে হেসে উঠেছে. . . .

collected


  • «
  •  Start 
  •  Prev 
  •  1 
  •  2 
  •  3 
  •  4 
  •  Next 
  •  End 
  • »

Login Form

Poll

Chat Room Best User!
 

Who's Online

We have 13 guests and 1 member online
  • sidkabir

Latest Member

 sidkabir
 habib
 Faad Sharier
 innocent
 MD SABBIR AHMMED
 Raterakash

Latest Login

 sidkabir
 habib
 Faad Sharier
 innocent
 Juzz
 MD SABBIR AHMMED

Latest Update

 sidkabir
 Faad Sharier
 innocent
 MD SABBIR AHMMED
 Rikey
 harunhira

Most Popular

 Eros
 Juzz
 Administrator
 moni
 sajib
 fahim

Random Member

 Rater Prohori
 sarwar
 Faad Sharier
 MD. SABBIR AHMED JOY
 sazzad hossain
 noman